বৃহস্পতিবার,২২ এপ্রিল ২০২১
হোম / জীবনযাপন / সংসারের খরচের লাগাম টানুন
১০/০১/২০১৯

সংসারের খরচের লাগাম টানুন

- সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার

বাড়ির গৃহিণীর হাতে সংসার খরচের ভার গাড়িচালকের হাতে স্টিয়ারিংয়ের মতোই। সদাসতর্ক হয়ে সংসার খরচের ব্যাপারটা সামলে নিতে হয় গৃহিণীকে। ‘পরিকল্পনামতো বাজেট করে একটু সাশ্রয়ী ও সচেতন হয়ে টাকা-পয়সা খরচ করলেই সব দিক ঠিক রাখা যায়।’ প্রতিমাসে কীভাবে খরচ করলে সংসারে সাশ্রয় হতে পারে ফয়জুন্নেসা মণি জানাচ্ছেন তেমন কিছু কায়দাকানুন আপনাকেই বুঝতে হবে সংসারে কোনটা সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। অর্থাৎ প্রয়োজনটা সুনির্দিষ্ট করতে হবে আপনাকেই। তবে পারিবারিকভাবে আলোচনা করে নিলে ভালো। এতে কারো মনে ক্ষোভ বা কষ্ট থাকে না। সংসার খরচে সাশ্রয়ী হতে হলে প্রথমে খরচের খাতগুলো নিয়ে একটি তালিকা (লিস্ট) করে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তালিকার প্রথম দিকে রাখতে হবে। পরিকল্পিতভাবে বাজেট ঠিক করে সংসার চালান। তাহলে প্রয়োজন-অপ্রয়োজন চোখের সামনে উঠে আসবে।

-বাজারের ক্ষেত্রে খুচরার চেয়ে পাইকারি দরে মাসের বাজার যেমন মাছ-মাংস এগুলো পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি করে কিনতে হবে। কিংবা ডিপার্টমেন্ট স্টোর থেকে এসব জিনিস (চাল, ডাল, আটা, ময়দা, গুঁড়া দুধ, নুডলস) কেনাকাটা করা যায় একবারে।

-মাসের প্রথমে কিংবা সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটা দিনে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে গিয়ে একবারে বেশি কেনাকাটা করলে খরচ যেমন বাঁচবে, তেমনি যাতায়াত ভাড়াও বেঁচে যাবে।

-পরিবারের সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে অবস্থা বুঝে বাজেট করুন। সদস্যদের বুঝিয়ে বলুন, সামর্থ্যরে সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজনের গুরুত্বের কথা।

-যথাসম্ভব ঋণ করার প্রবণতা পরিহার করে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সব সদস্যের ক্ষেত্রেও তাই। টানাপড়েনের সংসারেও চাইলে যৎসামান্য হলেও সঞ্চয় করা যায়।

-যদি দুটোই একসঙ্গে কেনা সম্ভব হয়, তবে অযথা কাউকে নিরাশ করবেন না।

-নিজে যেটা ঠিক বুঝছেন, অপ্রিয় হওয়ার ভয়ে তা থেকে সরে না আসাই ভালো।

-যাতায়াতের খরচ কমিয়ে আনুন। নিকট দূরত্ব হেঁটে যাওয়ার অভ্যাস করুন পরিবারের সবাই। এতে অযাচিত খরচ কমবে আর শরীর ভালো থাকবে।

-বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী হোন। যতটা সম্ভব বিদ্যুৎ ব্যবহারে অপচয়ী না হয়ে সচেতন হতে হবে। ওভেন, ইস্ত্রি, রাইসকুকার এসব ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে বিদ্যুৎ বিল কম আসবে।

-আবার যদি দেখেন নিজে যেটা প্রয়োজনীয় বলে ভাবছেন, তার চেয়ে আরো প্রয়োজনীয় কিছুর কথা পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাহলে সে মতামতকে গুরুত্ব দিন। পরিবারের কর্তাব্যক্তিটি সবসময় সঠিক কাজটি করতে পারেন না। তারও ভুল হতে পারে।

-বাজারের বিভিন্ন অফারের দিকে খেয়াল রাখুন। সুযোগ কাজে লাগান। কোথায় ভালো জিনিস অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়া যায় তা খোঁজ রাখুন। সময়ের দিকে দৃষ্টি রাখুন। যেমন রোজা আসার এক মাস আগে বাজার সেরে নিন। ঈদের এক মাস আগে প্রয়োজনীয় কাপড় কিনে নিন। এতে দামে কম পাবেন, ভিড়ের যন্ত্রণা এড়াতে পারবেন। আজকাল বিভিন্ন পণ্যের ডিসকাউন্ট অফার থাকেই, যখন যে ধরনের জিনিস যেমন মডেম, সিম, সেলফোন সেটে ডিসকাউন্ট বা ছাড় দেওয়া হয়, সে সময় কিনলে সাশ্রয় হয়।

-প্রয়োজনের বাইরেও শখের কিছু কিনতে চাইলে আপত্তি না করে সামর্থ্যরে মধ্যে হলে কিনে দিতে চেষ্টা করুন। অগত্যা না পারলে ভবিষ্যতে দিতে পারবেন তা জানিয়ে তাকে আশান্বিত করুন।

-লোকদেখানো ভোগের মানসিকতা আর সামাজিকতার নামে অসম প্রতিযোগিতার মানসিকতা পরিত্যাগ করতে হবে। নিজের সামর্থ্য দিয়ে বিচার করতে হবে সবকিছুর প্রয়োজনীয়তা এবং উপযোগিতা।


ন্ত্রণে রাখে সীমিত আয়ের প্রতিটি পরিবার। কিন্তু বাড়িভাড়া, শিক্ষা, পরিবহন ও স্বাস্থ্য খাতে খরচে তাদের হাত নেই। এসব খাতে খরচে নিয়ন্ত্রণ নেই সরকারেরও।